সভাপতির বানী

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রিয় অভিভাবক, শিক্ষক বৃন্দ, স্নেহের শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ের অংশীজন সকলকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজ আমি অত্যন্ত গর্ব, আবেগ, দায়িত্বের সঙ্গে আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান পানকাতা ইমলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বর্ণালি অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০ সালে, এক ঝাঁক শিক্ষানুরাগী ও এলাকার মানুষের স্বপ্ন থেকে। তৎকালীন সময়ে শিক্ষার আলো গ্রামে ছড়িয়ে দিতে তাঁরা যে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। শুরুতে মাত্র কয়েকটি কক্ষ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও অল্প সময়ে এটি হয়ে উঠে এলাকার গর্ব। শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। বহু ছাত্র-ছাত্রী এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন-ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, প্রশাসক ও সমাজ সেবক হিসেবে। অনেক ব্যাচের সাথে আমার ১৯৮৮ সালের ব্যাচ এক সময় এলাকার গর্ব হয়ে উঠেছিল, যারা শুধু পড়াশোনায় নয়, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা দেখিয়েছে। আমি নিজেও এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হওয়ায় এই ইতিহাস আমার গর্ব ও দায়িত্ব দুই-ই বহন করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি তার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে আমাদের রয়েছে পাকা ভবন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরী, যদিও কম্পিউটার ল্যাব নেই। নিয়মিত পাঠদান ও সহ শিক্ষা কার্যক্রমে আমরা সন্তোষজনক সাফল্য পাচ্ছি। আমাদের দক্ষ ও আন্তরিক শিক্ষক বৃন্দ প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর ভালো ফলাফল করছে। স্কাউট, বির্তক, কুইজ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা আমাদের বিদ্যালয়ের অন্যতম দিক। এই অগ্রগতির কৃতিত্ব আমাদের সম্মিলিত চেষ্টায় শিক্ষাক, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষার্থীদের সহযোগীতায় আমরা এই অবস্থানে পৌছাতে পেরেছি। দিগন্ত ছোঁয়ার লক্ষ্যে আমরা শুধু বর্তমানেই থেমে থাকতে চাইনা। আমাদের দৃষ্টিসীমা আরও বিস্তৃত আমরা চাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে। এ লক্ষ্যে আমাদের কিছু পরিকল্পনা, নিচে তুলে ধরা হলো, একটি চার তলা ভবন নিমার্ণের প্রক্রিয়া শুরু করা, স্মাট মাল্টিমিডিয় ক্লাস রুম ব্যবস্থা চালু করা, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও অললাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম, কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা, খেলাধুলার উন্নয়নে নতুন ভাবে মাঠ সংস্কার, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন গঠন এবং পরিবেশ বান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। আমরা বিশ্বাস করি, এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারি সহযোগিতা স্থানীয় জনগণ এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অতিগুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে বলতে চাই পানকাতা ইলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়এটি একটি ইতিহাস, একটি চেতনা, একটি আশার নাম, এই বিদ্যালয় আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। আসুন আমরা সবাই মিলে এই প্রতিষ্ঠানকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই, যেন আগামী দিনে এই বিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বরূপ নেয়। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। সবাইকে ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ।